মুক্তিযুদ্ধের ছবি তুলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা আলোকচিত্রী রঘু রাই
![]() |
| মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী। আলোকচিত্র : রঘু রাই ছবি : সংগৃহীত |
MyBha24 RayNex News ডেস্ক | অনলাইন ডেস্ক |
ভারতের কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ধারণ করা তার ঐতিহাসিক ছবির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। শরণার্থী শিবির, সীমান্ত এলাকা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবনচিত্র তিনি ক্যামেরায় ধারণ করেন, যা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ নথি হয়ে ওঠে।
তার তোলা শরণার্থীদের দুর্দশা, অনাহার, ক্লান্তি এবং সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের ছুটে চলার দৃশ্য বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
![]() |
| রঘু রাই-য়ের ক্যামেরায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন শরণার্থীদের দুর্দশা |
রঘু রাইয়ের ক্যামেরায় ফুটে ওঠে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রাম, বেঁচে থাকার লড়াই এবং মানবিক সংকটের বাস্তব চিত্র।
১৯৪২ সালের ডিসেম্বরে অবিভক্ত ভারতের ঝাং (বর্তমান পাকিস্তান) শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দেশভাগের পর তিনি ভারতে চলে আসেন এবং পরবর্তীতে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন।
প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তবে মাত্র ২৩ বছর বয়সে বড় ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় ফটোগ্রাফির জগতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি ধীরে ধীরে বিশ্বখ্যাত ফটোসাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৭২ সালে তিনি ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পদ্মশ্রী অর্জন করেন। পরে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার কাজ ব্যাপকভাবে স্বীকৃতি পায়।
তার ক্যামেরায় শুধু যুদ্ধই নয়, উঠে এসেছে রাজনৈতিক নেতা, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষের জীবন। ইন্দিরা গান্ধী, দালাই লামা ও মাদার তেরেসাসহ বহু বিশ্বনেতার চিত্র তিনি ধারণ করেছেন।
![]() |
| মুক্তিযুদ্ধোর সময় রঘু রাইয়ের তোলা ভারতীয় ট্যাংক ও জওয়ান ছবি |
পেশাগত জীবনে তিনি দীর্ঘদিন দি স্টেটসম্যান-এ কাজ করেন এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।
তার তোলা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আন্তর্জাতিকভাবে বহু পুরস্কার অর্জন করেন, যার মধ্যে ১৯৯২ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক কর্তৃক “বর্ষসেরা ফটোগ্রাফার” পুরস্কার অন্যতম।
রঘু রাইয়ের ক্যামেরা কেবল ছবি তোলেনি—তা ইতিহাস, সময় এবং মানবতার এক অমূল্য দলিল হয়ে উঠেছে।



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন