বিদেশি শক্তির আঘাতে কিমের ক্ষতি হলেই পরমাণু হামলা চালাবে উত্তর কোরিয়া
![]() |
| উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। ছবি: রয়টার্স |
প্রকাশিত: ৯ মে ২০২৬
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বিদেশি শক্তির আঘাতে নিহত বা অক্ষম হয়ে পড়লেই পরমাণু হামলা চালানোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে দেশটির সংশোধিত পারমাণবিক নীতিতে। সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করেছে পিয়ংইয়ং।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত উত্তর কোরিয়ার ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির প্রথম অধিবেশনে এই সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে (এনআইএস) এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
সংশোধিত নীতিমালায় কিম জং উনকে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের সর্বাধিনায়ক হিসেবে বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নেতৃত্বের ওপর হামলা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাল্টা পারমাণবিক হামলার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন নীতির ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের পারমাণবিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের হামলায় হুমকির মুখে পড়লে তাৎক্ষণিক ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক হামলা চালানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পরই উত্তর কোরিয়া তাদের নিরাপত্তা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র হওয়ায় উত্তর কোরিয়ায় গোয়েন্দা অভিযান চালানো তুলনামূলক কঠিন। দেশটির সীমিত ইন্টারনেট ব্যবস্থা, কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তা বলয়ের কারণে বাইরের শক্তির জন্য সেখানে একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা সহজ নয়।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য পরিচিত। তিনি সাধারণত ভারী সাঁজোয়া ট্রেনে চলাচল করেন এবং আকাশপথে ভ্রমণ এড়িয়ে চলেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করতেই এমন নীতি আনুষ্ঠানিকভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন