৩৭ দিনের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী, আন্দোলনকারীদের উচ্ছ্বাস

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: MyBha24 RayNex News Desk

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬ | আন্তর্জাতিক

টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) তার পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, এটি শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ নয়; বরং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় পর জনগণের চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকারের একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আপাতত কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে সারা দেশে তরুণদের অংশগ্রহণে গণসচেতনতা ও গণআন্দোলনের শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা, যাতে জনগণের দাবি উপেক্ষা করা না যায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় সরকারের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেও আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিলেন।

পদত্যাগের ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগের তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান তিনি।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল, জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, মিষ্টি বিতরণ এবং শান্তিপূর্ণ উদযাপনের মাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই আন্দোলন এবং এর পরিণতি ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পাবে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের সন্তান ও আহত শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশে সংকট, সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক—জনমনে বাড়ছে প্রশ্ন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: সৌদি আরব ও আমিরাতের অর্থনীতি চাপে, ইরান ইস্যুতে নতুন শঙ্কা।