দ্বিতীয় দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন: MyBha24 RayNex News আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো উভয় পক্ষ নতুন কোনো হামলা চালায়নি। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের পর এই সাময়িক বিরতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের আশা তৈরি করেছে।

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ নতুন হামলা থেকে বিরত থাকবে, ততক্ষণ তেহরানও পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে না। এর আগে ইরান প্রতিবেশী অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার জন্য একটি সুযোগ তৈরি করতে চান এবং ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওমানের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে শুরু করে। একই সময়ে কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশও মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে। অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কারণে ইরান আলোচনার পাশাপাশি সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।

এদিকে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা চললেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, আপাতত প্রতিশোধমূলক অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে নতুন হামলা হলে তারা প্রয়োজনীয় জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেছে।

এদিকে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে ইউক্রেনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্থাপন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক সংঘাত সাময়িকভাবে কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিক আলোচনা সফল হলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে, তবে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ আবারও উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পাবে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের সন্তান ও আহত শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশে সংকট, সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক—জনমনে বাড়ছে প্রশ্ন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: সৌদি আরব ও আমিরাতের অর্থনীতি চাপে, ইরান ইস্যুতে নতুন শঙ্কা।