বন্যায় ৭ জেলায় ৫১ মৃত্যু, পানিবন্দী ১০ লাখের বেশি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক | MyBha24 RayNex News

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬

টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় এ পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

বন্যায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৯ জন । ফাইল ছবি


রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে প্রকাশিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত সাত জেলার জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের ৬৪ জেলার জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সরকার।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলা

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি জেলা হলো—

চট্টগ্রাম

কক্সবাজার

বান্দরবান

রাঙামাটি

খাগড়াছড়ি

মৌলভীবাজার

হবিগঞ্জ

এসব জেলার ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি

চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখানে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দী এবং ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু এবং ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২১ হাজার ৯০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গতদের মধ্যে চাল, নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

কক্সবাজারে ২৮ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও ৪টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ জেলায় ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবার পানিবন্দী এবং ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা রয়েছেন। এছাড়া ২৪ জন আহত হয়েছেন এবং একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

বর্তমানে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

বান্দরবানে ৬ জনের মৃত্যু

বান্দরবানের ৭টি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এখানে ১২ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দী এবং ৮৩ হাজার ৫০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলায় ৬ জনের মৃত্যু এবং ২ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

রাঙামাটির পরিস্থিতি

রাঙামাটির ৯টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে।

এখানে ১ হাজার ৪৪টি পরিবার পানিবন্দী এবং ৩ হাজার ৫২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন অবস্থান করছেন।

খাগড়াছড়িতে

খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এখানে ১ হাজার ৭৩টি পরিবার পানিবন্দী এবং ৩৪ হাজার ৪১৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এ পর্যন্ত ১ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

মৌলভীবাজারে

মৌলভীবাজারের ৫টি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে।

এখানে ৭ হাজার ৩০৮টি পরিবার পানিবন্দী এবং ২৬ হাজার ৫৪৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বর্তমানে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

হবিগঞ্জে

হবিগঞ্জের ৩টি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এখানে ৬ হাজার ৪৪৪টি পরিবার পানিবন্দী এবং ২৮ হাজার ১৪০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও এখনো সেখানে কেউ আশ্রয় নেননি।

প্রশাসনের আহ্বান

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আরও ত্রাণ, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পাঠানো হবে। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকাবাসীকে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পাবে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের সন্তান ও আহত শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশে সংকট, সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক—জনমনে বাড়ছে প্রশ্ন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: সৌদি আরব ও আমিরাতের অর্থনীতি চাপে, ইরান ইস্যুতে নতুন শঙ্কা।