রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তেকাল, গোসল, জানাজা ও দাফন: সহীহ হাদিসের আলোকে সংক্ষিপ্ত বিবরণ
![]() |
| ছবি গ্রাফিক্স: MyBha24 RayNex |
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২৬ ইসলামিক ডেস্ক
প্রতিবেদন: MyBha24 RayNex News
সহীহ হাদিস ও প্রামাণিক সীরাহ গ্রন্থ অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১১ হিজরির ১২ রবিউল আউয়াল, সোমবার মদিনায় হযরত আয়েশা (রা.)-এর হুজরায় ইন্তেকাল করেন।
ইন্তেকালের সময়:
সহীহ হাদিসে বর্ণিত আছে, ইন্তেকালের আগে তিনি তীব্র জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুর মুহূর্তে তিনি পানিতে হাত ভিজিয়ে মুখ মোবারক মুছছিলেন এবং বলছিলেন:
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নিশ্চয় মৃত্যুর রয়েছে কঠিন যন্ত্রণা।"
(সহীহ আল-বুখারি)
গোসল:
ইন্তেকালের পর তাঁর গোসলের দায়িত্ব পালন করেন হযরত আলী (রা.), হযরত আব্বাস (রা.), ফজল ইবন আব্বাস (রা.), কুছাম ইবন আব্বাস (রা.), উসামা ইবন যায়েদ (রা.) এবং শুকরান (রহ.)সহ কয়েকজন সাহাবি।
জানাজা:
সহীহ বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর জানাজায় কোনো নির্দিষ্ট ইমাম ছিলেন না। সাহাবায়ে কেরাম দলে দলে তাঁর হুজরায় প্রবেশ করে পৃথকভাবে জানাজার সালাত আদায় করেন। প্রথমে পুরুষ, পরে নারী এবং এরপর শিশুরা জানাজায় অংশ নেন।
দাফন:
দীর্ঘ সময় জানাজা শেষে বুধবার দিবাগত রাতে তাঁকে হযরত আয়েশা (রা.)-এর হুজরায়, যেখানে তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন, সেখানেই দাফন করা হয়। কবর খননের দায়িত্ব পালন করেন হযরত আবু তালহা (রা.)।
সংক্ষিপ্ত জীবনচিত্র:
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) শৈশবেই পিতৃহারা হন। পরে দাদা আবদুল মুত্তালিব এবং চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে বড় হন। নবুওয়াত লাভের পূর্বেই তিনি আল-আমিন (বিশ্বস্ত) নামে পরিচিত ছিলেন।
৪০ বছর বয়সে নবুওয়াত লাভের পর তাঁর পুরো জীবন অতিবাহিত হয় আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত, মানবকল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং উত্তম চরিত্র গঠনের কাজে।
তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন, সময়কে ইবাদত, পরিবার এবং মানুষের সেবার মধ্যে সুন্দরভাবে ভাগ করে নিতেন এবং রাতের দীর্ঘ সময় তাহাজ্জুদের ইবাদতে কাটাতেন।
তথ্যসূত্র: সহীহ আল-বুখারি, সহীহ মুসলিম এবং প্রামাণিক সীরাহ গ্রন্থ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন