ইরান যুদ্ধে যোগ না দেওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ফাইল ছবি) |
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রতিবেদন: MyBha24 RayNex
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ানোয় দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই জেরে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
মহড়া কমানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ার কথা জানান।
ট্রাম্প বলেন, এসব সামরিক মহড়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল এবং এর বড় অংশের খরচ যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। একই সঙ্গে তিনি এসব মহড়াকে অনুপযুক্ত ও বৈরী বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সম্প্রতি ইরানের ‘পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ’ কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়া অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
সূচি অনুযায়ী মহড়া চলবে: সিউল
ট্রাম্পের ঘোষণার পর দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়া পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।
‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামের বার্ষিক এই সামরিক মহড়া সোমবার (১৭ আগস্ট) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এবারের মহড়া ১১ দিন চলবে এবং এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেবেন।
উত্তর কোরিয়ার হুমকিও বিবেচনায়
যৌথ সামরিক মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হুমকির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
সামরিক কর্মকর্তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা উত্তর কোরীয় সেনাদের সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় রেখেই প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার বিরোধিতা
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার বিরোধিতা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মহড়াটিকে ‘আগ্রাসী যুদ্ধের মহড়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান উত্তর কোরিয়ার নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল।
ট্রাম্প-কিম সম্পর্কের প্রসঙ্গ
সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা দেওয়ার আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। ২০১৮ সালে কিমের সঙ্গে বৈঠকের একটি পুরোনো ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি।
২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে সেই আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আরও জোরদার করে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। ১৯৫৩ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ হয়নি। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে সিউল।
MyBha24 RayNex
সংবাদ | তথ্য | সত্যের সঙ্গে

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন