ফোন করে ডেকে নিয়ে পাকিস্তানি টিকটকার আয়েশাকে গুলি করে হত্যা

পাকিস্তানের জনপ্রিয় টিকটকার আয়েশা গিলামানা। ছবি: সংগৃহীত

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২৬

প্রতিবেদন: MyBha24 RayNex

পাকিস্তানের তক্ষশীলা শহরে জনপ্রিয় টিকটকার আয়েশা গিলামানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ১৫ বছর বয়সী ছোট বোন গুরুতর আহত হয়েছেন।

গত ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গাড়িতে যাওয়ার সময় দুই মোটরসাইকেল আরোহী আয়েশাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

টিকটকার আয়েশার পরিচয়

পুলিশের বরাত অনুযায়ী, আয়েশা গিলামানার আসল নাম শামসু বিবি। ২৮ বছর বয়সী এই তরুণী টিকটকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী ছিল।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনুরাগীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ফোন করে বাইরে ডাকার অভিযোগ

আয়েশার বাবা ফজল সাহিবজাদা পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে জানান, ঘটনার আগে কাশিফ নামে এক ব্যক্তি ফোন করে আয়েশাকে দ্রুত বাড়ির বাইরে আসতে বলেন।

এরপর আয়েশা তার ১৫ বছর বয়সী ছোট বোন আসিমা এবং ভাই নাইমাতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে করে বাড়ির বাইরে বের হন।

কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আয়েশাকে গুলি করা হয়েছে এবং তার ছোট বোনও গুরুতর আহত হয়েছেন।

গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তক্ষশীলার একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে দুই অজ্ঞাতপরিচয় মোটরসাইকেল আরোহী তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুলির একটি আয়েশার ঘাড়ে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

গুলিবর্ষণের পর গাড়ির চালক নাইমাতুল্লাহ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে গাড়িটি অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেলে আয়েশার ছোট বোন আসিমা গুরুতর আহত হন।

পরে আয়েশাকে তক্ষশীলার তেহসিল হেডকোয়ার্টার্স হাসপাতালে নেওয়া হলে তার বাবা মরদেহ শনাক্ত করেন।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফুটেজে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী বলে ধারণা করা দুই ব্যক্তিকে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে।

হামলাকারীদের পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য শনাক্ত করতে তদন্তকারীরা এসব ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন।

আর্থিক বিরোধ নিয়ে পরিবারের অভিযোগ

আয়েশার বাবা পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে কওসর এবং জাভেদ ওরফে শাহিন নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে তার মেয়ের আর্থিক বিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন।

তার অভিযোগ, টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে ওই দুজনের কাছ থেকে আয়েশা আগে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন। এ বিষয়ে ইসলামাবাদে ওই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।

তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি।

তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ

হামলার একটি ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

আয়েশার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি অজ্ঞাত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

পুলিশ হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এবং হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

MyBha24 RayNex

সংবাদ | তথ্য | সত্যের সঙ্গে

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পাবে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের সন্তান ও আহত শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশে সংকট, সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক—জনমনে বাড়ছে প্রশ্ন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: সৌদি আরব ও আমিরাতের অর্থনীতি চাপে, ইরান ইস্যুতে নতুন শঙ্কা।